মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ : 1249 হিজরীর 13 ই সফর জন্ম গ্রহন করেন ৷ মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ : শাহ আব্দুল গণী ...
মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ: 1249 হিজরীর 13ই সফর জন্ম গ্রহন করেন ৷
মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ: শাহ আব্দুল গণী রহ: থেকে হাদিস শাস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন ৷ সর্ব প্রকার বিদ্যায় তিনি পারদর্শী ছিলেন ৷ বিদ্যা -বুদ্ধি ও মেধায় তিনি রশীদ আহমাদ ও কাসেম নানুতুবী থেকে কোন অংশেই কম ছিলেননা ৷ জ্ঞানার্জনের আকাঙ্খা ছিল তার অত্যান্ত বেশি ৷ তিনি বলতেন মিঞা! যদি গালমন্দ সম্পর্কীয় বই পুস্তকও হয় তবুও তা পড়া দরকার ৷ আর কিছু না হোক দু'চারটা গালিও তো মুখস্থ হয়ে যাবে
হাসি তামাশার মাধ্যমে তিনি জটিল জটিল সমস্যার সমাধান দিয়ে দিতেন ৷ যেমন বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলো , হযরত লাশ পোড়ালে মুর্দার কেমন কষ্ট হয়? জবাবে তিনি বললেন, তোমার লেপ পুড়ে গেলে যেরূপ কষ্ট তোমার হয়ে থাকে ৷
এজাতীয় আরও কিছু ঘটনা:
একদিন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হুজুর হায়েয অবস্থায় মহিলাদের নামায সম্পুর্ণ মাফ হয়ে যায়, কিন্তু রোযা কাযা করতে হয় এর কারণটা কি? তিনি বললেন, এর কারণ হলো: তুমি এ অনুযায়ী আমল না করলে তোমার মাথায় এত জুতা পেটা করা হবে যে, তোমার মাথার চুল একটিও থাকবেনা ৷ পরে লোকটি চলে গেলে তিনি ছাত্রদের বললেন, এ উত্তরটি ঐ মূর্খ লোকটার জন্য ৷ সাধারণ লোকের সামনে শরীয়তের রহস্য বর্ণনা করলে সমস্যা সৃষ্টি হয়
★★★ একদা এক আলেম অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ কিন্তু কিন্তু তায়াম্মুম জায়েয হওয়ার মত অবস্থা হলেও তিনি ওজু করতেন ৷ মাওলানা ইয়াকুব নানুতবী রহ: তাকে দেখে বললেন, দেখুন মাওলানা! তায়াম্মুম করার হুকুম থাকা সত্বেও আপনি ওজু করছেন ৷ এর অর্থ এই নয় কী যে, আপনার মতে তায়াম্মুম অসম্পুর্ন তাহারাত ৷ তাই আপনি ওজুই করছেন ৷ অথচ আল্লাহ বলেন, তায়াম্মুম অসম্পুর্ন নয় বরং পরিপুর্ণ তাহারাত৷
★ একদা এক মহিলা তার একটি অন্ধ শিশুকে নিয়ে ইয়াকুব নানুতুবী রহ: এর কাছে এসে বলল, হযরত! আমার এই শিশুটিকে ভালো করে দিন ৷ তিনি বললেন নাউযুবিল্লাহ! আমি কি ঈসা নবী, যে অন্ধকে ভালো করে দিব? একথা বলে তিনি হাটতে শুরু করলেন ৷ কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর তার অন্তরে আল্লাহর পক্ষ হতে ইলহাম হলো, তুমি কে আর ঈসাই বা কে? যা করছি সবই তো আমিই করি ৷ যাও শিশুটির চোখে হাত বুলিয়ে দাও ৷ হযরত ইয়াকুব নানুতুবী রহ: ফিরে এসে শিশুটির চোখে হাত বুলিয়ে দিলেন ৷ সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ দুটি ভালো হয়ে গেল ৷
কুরআন -হাদিস হতে নৈতিক শিক্ষা অর্জনে তিনি বেশ পারদর্শী ছিলেন ৷ একদিন তিনি বললেন, ভয়ের সময় দূরে না গিয়ে নিকটে কোথাও লুকানো দরকার ৷ কারণ অনুসন্ধানকারীরা তালাশ করবে দূরে, কাছে নয় ৷ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাজ থেকে আমরা এটাই বুঝতে পারি ৷ কেননা হিজরতের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাওর পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন, যা মক্কার একেবারে নিকটে ছিল ৷


COMMENTS