রোম পারস্য রাসুল সা: সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা সাহমী চিঠি প্রাসাদ
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা সাহমী রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু:
আমাদের এই ঘটনার মধ্য মণি হলেন রাসুলের এক সাহাবী ৷ নাম আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা সাহামী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ৷ ইতিহাস তার প্রতি কোনো গুরুত্ব আরোপ না করে নির্দ্বিধায় নির্বিঘ্নে আপন গতিতে চলে যেতে পারত অজানা উদ্দেশ্যে ৷ কিন্তু ইসলাম তা করতে দেয়নি ৷ আরবে অখ্যাত অজানা পল্লী থেকে তুলে এনে ইতিহাসের রাজপথে তাকে আপন মহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছে ৷ মক্কার গলিগুপচি থেকে বের করে বিশ্বের অপরাজেয় দুই সাম্রাজ্য পারস্য ও রোম সম্রাটদ্বয়ের সাথে সাক্ষাতের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে ৷ ফলে যুগের পর যুগ ধরে কাল তাকে আপন স্মৃতিতে ধরে রেখেছে আর ইতিহাস তার কাহিনীকে বিচিত্র বর্ণে বর্ণনা করে চলেছে ৷
ইতিহাস পারস্য সম্রাট কিসরার সাথে তার সাক্ষাতের রোমাঞ্চকর কাহিনী স্রোতার সামনে এভাবে তুলে ধরে ৷
তখন ষষ্ঠ হিজরী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনারব রাজা - বাদশাহদের নিকট পত্র লিখে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা করলেন৷ এ গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদনের ভয়াবহতা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্যক অবহিত ছিলেন ৷ তারা দূত হিসেবে সূদুর অচীন দেশে যাবে ৷ সে দেশের ভাষা তারা জানে না ৷ তারা রাজা-বাদশাদের আচার-আচরণ গতি-প্রকৃতির কিছু জানেনা ৷ তদুপরি তারা সেই অচিন দেশে গিয়ে রাজা-বাদশাদের কে স্বধর্ম ত্যাগ করার আহ্বান জানাবে ৷ তাদের ইজ্জত সম্মান ও বাদশাহী ত্যাগের আহ্বান জানাবে ৷ আর আরবের নবীর অনুসরণের আহ্বান জানাবে, যারা নিকট অতীতে তাদেরই অনুসারী ছিল ৷
নিশ্চয় এ যাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ ৷ বিপদসঙ্কুল ৷ গমনকারী পরলোকের অভিযাত্রী আর প্রত্যাগমনকারী যেন পূর্ণ জন্ম লাভকারী ৷
তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের সমবেত করলেন তারপর দাঁড়িয়ে সর্বপ্রথম আল্লাহর গুনকীর্তন করলেন; বললেন আমি তোমাদের কয়েকজনকে অনারব দেশের রাজা - বাদশাদের নিকট পাঠাতে চাই ৷ বনি ইসরাইল যেভাবে মুসা আলাইহিস সালাম এর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল তোমরা আমার সাথে তেমনি ভাবে বিতর্কে লিপ্ত হয়োনা ৷ সাহাবায়ে কিরাম বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ আপনি আমাদের যা নির্দেশ দেবেন আমরা তাই পালন করব ৷ সুতরাং পৃথিবীর যেখানে ইচ্ছা সেখানে আমাদের নির্দ্বিধায় প্রেরণ করুন ৷
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছয় জন সাহাবী কে নির্বাচন করেন ৷ তারা অনারব রাজা - বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াত পত্র নিয়ে যাবে ৷ তাদের একজন হলেন আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা সাহমি রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু ৷ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পারস্য সম্রাটের নিকট পত্র নিয়ে যেতে নির্বাচন করলেন ৷
আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা সাহমী রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু তার বাহন প্রস্তুত করলেন ৷ স্ত্রী- পরিজনদের বিদায় জানালেন ৷ তারপর বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে গন্তব্যস্থলের দিকে ছুটে চলেন ৷ তিনি একাকী , আল্লাহ ছাড়া তার আর কেউ নেই ৷ অবশেষে তিনি পারস্য সাম্রাজ্যে গিয়ে পৌঁছলেন ৷ সম্রাটের নিকট গমনের অনুমতি প্রার্থনা করলেন এবং সম্রাটের ঘনিষ্ঠ লোকদের কাছে রাসুলের পত্রের কথা জানালেন ৷
পরদিন দরবার চলাকালে যখন সাম্রাজ্যের মহান ব্যক্তিরা উপস্থিত হল তখন আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু এর ডাক পড়লো ৷ তিনি দরবারে প্রবেশ করলেন ৷ আরবদের সরলতা, অনাড়ম্ভতা প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে তার গায়ে ৷ একটা মোটা আলখেল্লা তার গায়ে একটা পাতলা চাদর ৷ কিন্তু তার মনোবল আকাশ ছারিয়ে ৷ আশা-আকাঙ্ক্ষা চক্রবাল পেরিয়ে ৷ মুখমন্ডলের রেখায় রেখায় ফুটে উঠেছে ইসলামের মর্যাদা, ঈমানের অভূতপূর্ব আভা ৷ আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে সামনে অগ্রসর হতে দেখে পারস্য সম্রাট কিসরা তার এক রাজকর্মচারী কে ইঙ্গিত করল যেন সে পত্রটি গ্রহণ করে ৷
কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন না ৷ তা হতে পারে না ৷ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পত্রটি আপনার হাতেই দিতে বলেছেন ৷ সুতরাং আমি রাসূলের নির্দেশ অমান্য করতে পারবোনা ৷ কিসরা বলল তাকে আমার নিকট আসতে দাও আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এগিয়ে গেলেন এবং স্বহস্তে তাকে পত্রটি প্রদান করলেন ৷ কিসরা তখন আরবী ভাষায় জ্ঞাত এক হীরার লোককে ডেকে পাঠান এবং তাকে চিঠিটি পড়ে শোনানোর নির্দেশ দেন লোকটি পড়তে শুরু করল—
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ৷ আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ এর পক্ষ হতে পারস্য সম্রাট কিসরার নিকট ৷ যে হেদায়েত লাভ করবে তার উপর শান্তি বর্ষিত হবে ৷
পত্রের এতোটুকু শুনেই কিসরা ক্রোধে ফেটে পড়লো ৷ মুখমন্ডল লালে লাল হয়ে গেল ৷ ঘাড়ের শিরা উপশিরা ফুলে উঠলো ৷ কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পত্রলেখা নিজের নাম দিয়ে শুরু করেছেন ৷
তারপর লোকটির হাত থেকে পত্রটি টেনে নিয়ে পত্রের বিষয়বস্তুর কিছুই না জেনে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে দিল চিৎকার করে বলল, সে আমার দাসানুদাস হয়ে এমনিভাবে পত্র লিখলো ৷ তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু কে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিল এবং তাকে বের করে দেওয়া হল ৷
কিসরার দরবার থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু দুরুদুরু হৃদয়ে বেরিয়ে পড়লেন ৷ তার সাথে কি আচরণ করা হবে তা তিনি জানেন না ৷ হত্যা করা হবে, না স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হবে? কিন্তু মুহূর্তকাল পরেই তিনি বলে উঠলেন; আল্লাহর শপথ, রাসূলের পত্র পৌঁছে দেওয়ার পর আমার যাইহোক আমি তার কোনো পরোয়া করি না ৷ এরপর ঘোড়ায় চড়ে বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেন ৷ কিসরার ক্রোধ প্রশমিত হলে আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে দরবারে উপস্থিত করার নির্দেশ দিল ৷ কিন্তু লাপাত্তা ৷ তাকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না ৷ অনুসন্ধান করা হলো ৷ কিন্তু তার কোন চিহ্ন পাওয়া গেল না ৷ আরবের পথে অনুসন্ধান করা, হলো কিন্তু তিনি তার পূর্বেই পারস্যের সীমানা পেরিয়ে গেছেন তাই তাকে আর পাওয়া গেল না ৷
আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে এলেন এবং কিসরার চিঠি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলার কথা বললেন৷ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম শুধু এতোটুকু বললেন আল্লাহ যেন তার সম্রাজ্যকে ও ছিন্নভিন্ন টুকরো টুকরো করে দেন ৷
এদিকে পারস্য সম্রাট কিসরা ইয়ামানের গভর্নর বাযানের নিকট এ মর্মে পত্র পাঠালো যে, হিজাজে আবির্ভূত ঐ লোকটির নিকট দুজন শক্তিশালী সৈন্য পাঠিয়ে দাও ৷ তাদের নির্দেশ দাও তারা যেন তাকে গ্রেফতার করে আমার নিকট নিয়ে আসে ৷ বাযান তখন তার শ্রেষ্ঠ সৈন্যদের দুজনকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠিয়ে দিল৷ সাথে একটি রাষ্ট্রীয় রাজচিঠি ও দিয়ে দিলো ৷ তাতে নির্দেশ দিল যেন কাল বিলম্ব না করে সৈন্য দুজনের সাথে সম্রাট কিসরার সাক্ষাতে চলে যান ৷ সৈন্য দুজনকে সে এ কথা ও বলে দিলো তারা যেন নবুওতের দাবিদার ঐ লোকটির আচার-আচরণ কথা-বার্তা চাল-চরিত্র ইত্যাদি সবকিছু জেনে এসে তাকে জানায় ৷
সৈন্য দুজন ঘোড়ায় চড়ে দ্রুত ছুটতে লাগলো ৷ ছুটতে ছুটতে তারা তায়েফে এসে পৌছল ৷ তারা সেখানে কুরাইশের একটি ব্যবসায়ী কাফেলা পেল ৷ মুহাম্মদ সম্পর্কে তারা তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলল সে ইয়াসরিবে (মদিনায়) আছে ৷ তারপর ব্যবসায়ীরা আনন্দ উল্লাস করতে করতে মক্কায় ফিরে গেল ৷ তারা কোরাইশদের স্বাগত জানিয়ে বলতে লাগল তোমরা চোখ শীতল করো তোমাদের আর কোন চিন্তা-ভাবনা দরকার নেই ৷ এবার কিসরা তার পিছু নিয়েছে ৷ আর কিসরাই তাকে শায়েস্তা করার জন্য যথেষ্ট ৷
সৈন্য দু 'জন মদিনার দিকে রওনা হয়ে গেল ৷ মদিনায় পৌঁছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করে তারা তাকে বাজানের পত্রটি দিলো এবং বললো— রাজাধিরাজ কিসরা আমাদের রাজা বাযানের নিকট আপনার গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠিয়েছেন ৷ তাই আমরা এসেছি, আমাদের সাথে আপনাকে তার নিকট যেতে হবে ৷ যদি বিনা আওয়াজে রওয়ানা হয়ে যান তাহলে আমরা কিসরার নিকট আপনার হয়ে সুপারিশ করব যা আপনার খুব উপকারী হবে, আপনার শাস্তি রহিত করবে ৷ আর যদি অস্বীকার করেন তাহলে তো তার ক্ষমতা, প্রতাপ আর আপনাকে ও আপনার জ্ঞাতি গোষ্ঠিকে ধ্বংশ করার শক্তির কথা আপনার জানা আছে ৷
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কথা শুনে মৃদু হাসলেন ৷ তারপর তাদের বললেন, আজ তোমরা ফিরে যাও কাল এসো ৷ পরদিন সকালে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর নিকট এসে বলল আপনি কি সম্রাটের সাথে সাক্ষাতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাদের বললেন আজকের পর তোমরা আর কিসরার সাক্ষাৎ পাবে না ৷ আল্লাহ তার জীবন লীলা সাঙ্গ করে দিয়েছেন ৷ অমুক মাসের অমুক রাতে তাঁর ছেলে শিরাওয়াইহি তাকে পরাভূত করেছে ৷
সৈন্য দুজন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারায় স্থির দৃষ্টিতে তাকাল তাদের চেহারায় বিস্ময় ভাব ফুটে উঠল ৷ তারা বলল আপনি যা বলছেন তা কি একটু ভেবে দেখেছেন?! আমরা কি তা বাযানকে জানাবো?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন বেশ! জানাও ৷ তোমরা তাকে আরও বলবে, আমার এই ধর্ম শীঘ্রই কিসরার সাম্রাজ্যের শেষ সীমানা ছাড়িয়ে যাবে ৷ যদি আপনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তাহলে আপনার রাজ্য আপনারই থাকবে ৷ আপনাকে আপনার গোত্রের রাজা বানাবো ৷
সৈন্য দুজন রাসূলের নিকট থেকে চলে গেল এবং বাজানের নিকট উপস্থিত হল এবং বাজান কে সব সংবাদ দিল ৷ বাঁযান বললো মোহাম্মদ যা বলেছে তা যদি সত্য হয় তবে সে নবী আর যদি তা না হয় তবে তার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করব ৷ এর কিছুদিন পরই বাজানের নিকট শিরাওয়াহির পত্র এল ৷ পত্রে সে লিখেছে—
যার সার কথা হল; আমি কিসরাকে হত্যা করেছি ৷ জাতীয় স্বার্থের প্রতিশোধ নিতেই তাকে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছি ৷ সে নির্বিবাদে সম্মানিত ব্যক্তিদের হত্যা করত ৷ তাদের অবলা নারীদের কারারূদ্ধ করত, আর তাদের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিত ৷ তাই আমায় চিঠি পৌঁছার পরই সবার থেকে আমার আনুগত্যের অঙ্গীকার নিবে ৷
শিরাওয়াহি এর পত্র পাঠ শেষ করেই বাজান তা ছুঁড়ে ফেলে দিল এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কথা ঘোষণা করল ৷ আর ইয়েমেনে যেসব পারসিক লোকেরা ছিল তারাও তার সাথে মুসলমান হয়ে গেল ৷
ইতিহাসের মুক্তকণ্ঠে পারস্য সম্রাট কিসরার সাথে আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু এর সাক্ষাৎ এর কাহিনী বিবৃত হলো ৷ কিন্তু রোম সম্রাট কায়সারের সাথে তার সাক্ষাতের কাহিনীটি? কি হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর খিলাফতকালে তার কায়সারের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং তার সাথে চমৎকার ঘটনাও ঘটেছিল ৷
ঐতিহাসিক সেই কাহিনী জানার আগ্রহ থাকলে এখান থেকে জানতে পারেন


COMMENTS